নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২ আগস্ট ২০২৫:
গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্র অধিকার আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র রাশেদ খাঁন বলেছেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম এখন নিজেই বৈষম্য সৃষ্টির প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।”
শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান লিখেছেন, “এই প্ল্যাটফর্মের পবিত্রতা রক্ষায় এর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে স্থগিত করা উচিত। এটি এক সময় সার্বজনীন গণ অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিল—সেই ঐতিহাসিক ভূমিকা অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু বিগত এক বছরে যেভাবে ‘সমন্বয়ক’ বা ‘ছাত্র প্রতিনিধি’র পরিচয়ে চাঁদাবাজি, তদবির বাণিজ্য, পদোন্নতি ও বদলির ব্যবসা চালানো হয়েছে, তাতে এটি এখন মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের মতোই একটি বিতর্কিত সংগঠন হয়ে উঠেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই প্ল্যাটফর্মটি সার্বজনীনভাবে ইতিহাসে সংরক্ষিত থাকা উচিত ছিল, যাতে সকলে একে নিজেদের মনে করে ও গর্ব করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এখন এটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মনে হচ্ছে কেউ কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই বিতর্ককে জিইয়ে রাখতে চাইছে। আর সেই বিতর্কে রাজনীতিক, ছাত্রনেতা, এমনকি সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
রাশেদ খান অভিযোগ করেন, “গত এক বছরে অনেককেই এই আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যাদের মূল্যায়ন করা উচিত ছিল, তাদের বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে। এখন সেই কুক্ষিগত প্ল্যাটফর্ম পুনরুদ্ধারের ডাক দিয়ে যদি সকলকে যুক্ত হতে আহ্বান জানানো হয়, আর সকলে সাড়া দেয়—তবে তা হবে আত্মমর্যাদার অবমূল্যায়ন।”
তিনি মন্তব্য করেন, “এখন এসে যদি কেউ বলেন—সবাইকে নিয়ে প্ল্যাটফর্ম বাঁচাতে হবে—তাহলে প্রশ্ন আসে, এর আগে কেন সেই চেতনা ছিল না? এখন কেন সবাইকে প্রয়োজন হচ্ছে?”
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একসময় বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে তরুণদের অন্যতম সোচ্চার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত ছিল। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এই প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেয়।