গাজা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নতুন বোঝাপড়া, সামরিক সিদ্ধান্ত স্থগিত
নির্বাচন নিউজ ২৪
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজার মানবিক সংকট ও চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন এক বোঝাপড়ার পথে এগোচ্ছে। ফলে গাজায় সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রেখেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
সিএনএন-কে দেওয়া এক প্রতিবেদনে বিষয়টির সঙ্গে জড়িত একটি সূত্র জানিয়েছে, “এই সপ্তাহে গাজা নিয়ে কোনো সামরিক সিদ্ধান্ত আসছে না। যদি হামাস যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত না হয়, তাহলে আগামী সপ্তাহে ইসরায়েল পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।”
সূত্র আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি সরকারের অভ্যন্তরে গাজা নিয়ে অবস্থান বিভক্ত। কেউ কেউ গাজা শহর ও আশপাশের জনবহুল অঞ্চল ঘিরে রাখার পক্ষে, আবার কেউ সরাসরি সামরিক অভিযানের মাধ্যমে শহর দখলের পরিকল্পনার পক্ষে।
বৃহস্পতিবার একজন শীর্ষস্থানীয় ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বর্তমানে গাজা পরিস্থিতি মোকাবেলায় নতুন এক সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে। কারণ হামাস যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি বিনিময়ের আলোচনাগুলো থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং নির্দিষ্ট সামরিক চাপ বজায় রাখার বিষয়ে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করছে।”
দুইটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, কাতারের দোহায় হামাসের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা সম্প্রতি নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ অভিযোগ করেছিলেন, হামাস আলোচনায় ‘অসৎভাবে’ অংশ নিচ্ছে।
তবে এরপরও ইসরায়েলি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “হামাস যদি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে, তাহলে তারা আবার দোহায় আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত রয়েছে।”
একই দিন হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, তারা একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে আগ্রহী, তবে তার আগে গাজার মানবিক পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি দেখতে চায়।
এই সময় গাজা এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছে, খাদ্য ও ওষুধের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে, বহু মানুষ অনাহারে মারা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের যৌথ অবস্থান মানবিক সহায়তা কেন্দ্রিক ও রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে সাজায়, তাহলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের একটি পথ তৈরি হতে পারে। তবে এর জন্য দরকার হবে পারস্পরিক আস্থা ও আন্তর্জাতিক চাপ।”

